কৃষকের স্বার্থে দুর্গাপুরে সাঁড়াশি অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমান

Written by

in

নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা এবং অনুমোদনহীন কৃষি উপকরণের বিক্রি ও ব্যবহার ঠেকাতে রাজশাহীর দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে অবৈধ সার ও অনুমোদনহীন বালাইনাশক বিক্রির দায়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লায়লা নুর তানজুর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনীসহ কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সরেজমিনে কৃষি উপকরণের মজুদ, বিক্রি ও অনুমোদনের বিষয়গুলো তদারকি করেন। এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তহিদুর রহমান, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বজলুর রহমান এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পৃথকভাবে দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে মো. সোহেল রানার প্রতিষ্ঠানকে সার ব্যবস্থাপনা আইন, ২০০৬-এর ৮(১) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে রেণু বেগমের প্রতিষ্ঠানে অনুমোদনহীন বালাইনাশক বিক্রির অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে কৃষি বিভাগের সক্রিয় ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা পারভীন লাবনী বলেন, সাধারণ কৃষক যাতে নিম্নমানের বা অবৈধ কৃষি উপকরণ কিনে প্রতারিত না হন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সতর্ক রয়েছে। অবৈধ সার মজুদ, লাইসেন্সবিহীন বালাইনাশক বিক্রি এবং কৃষি উপকরণ সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অনুমোদনহীন ও নিষিদ্ধ বালাইনাশক এবং অনিবন্ধিত সার ব্যবহারে শুধু ফসলের ক্ষতিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে মাটির গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে নিরাপদ ও অনুমোদিত কৃষি উপকরণ ব্যবহারে কৃষকদের সচেতন করার পাশাপাশি বাজারে নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লায়লা নুর তানজু বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড রোধে এ ধরনের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
কৃষি উপকরণের মান নিশ্চিত করা, কৃষকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা এবং নিরাপদ কৃষি উৎপাদন বজায় রাখতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সমন্বিত এ ধরনের তদারকি কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।#  মহ/

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *