নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
রাজশাহীর দুর্গাপুরে আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক ৭২ টি বাঁশ কেটে নিয়েছে প্রতিপক্ষ, আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
২০ অক্টোবর( সোমবার) জেলা দূর্গাপুর থানা আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মোসাঃ মঞ্জুয়ারা বেগম (৫০)।এতে, মোঃ মামুন (৪২), মোঃ রাবির (৪০) মোঃ সান্ত (২২), মোঃ পান্ত (২০) মোঃ মাইনুল (৪০),মোছাঃ মালতী বিবি (৫০) আসামী করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী ও ১ নং সাক্ষী ওয়ারিশ সূত্রে ও ক্রয়সূত্রে নালিশী তফশিল বর্ণিত সম্পত্তি ও ভূমির মালিক হইতেছেন। ৬ নং আসামী বাদী হয়ে জি.আর. ৫৮/২০০১ (দূর্গাপুর) ধারাঃ- ২০০০ সালের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন আইনের ৪/১০/১২ ধারায় আমলী আদালত “খ” অঞ্চল ও জেলা রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌঃ কাঃ বিঃ ১৪৪ ধারা মতে ১২৮৮পি/২০২৪ (দূর্গাপুর) নম্বর মামলাটি দায়ের করিলে উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত নিম্ন তফশিল বর্ণিত সম্পত্তি অত্র মামলার বাদী দীর্ঘ ৪০ বৎসর যাবৎ বাঁশঝাড় তৈরী করে আইল বা সীমানা চিহ্নিত করে দখলে থাকায় তাহার পক্ষে বিগত ০১/০৯/২০২৫ ইং তারিখে আদেশ প্রদান করেন। উক্ত আদেশ অমান্য করিয়া আসামীরা নালিশী তফশিল বর্ণিত সম্পত্তি জোর পূর্বক জবর দখল করিবার জন্য হুমকি প্রদর্শন করিতে থাকে।
এমতাবস্থায় আসামীরা ঘটনার তারিখে ও সময়ে অর্থাৎ ১৪/১০/২০২৫ ইং তারিখে সকাল ৭.০০ টা হইতে ১০.০০ টা পর্যন্ত অজ্ঞাতনামা ৭/৮ জন লেবার সহ বেআইনী জনতায় দলবদ্ধ হয়ে বাদীর তফশিল বর্ণিত জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে এবং আসামীদের হাতে থাকা হাসুয়া, লাঠি, কোদাল এবং লেবারদের হাতে থাকা বাঁশ কাটার দা ও কুড়াল দিয়ে লেবাররা বাঁশ কাটিতে শুরু করে। বাদী ও স্বাক্ষী-রা বাঁশ কাটার শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে যেয়ে আসামীদের দেখিতে পায়। বাদী ও স্বাক্ষী-রা আসামীদের বাঁশ কাটিতে নিষেধ করে। তখন ১ নং আসামী হুকুম দিয়ে বলে যে, “শালাদের নিষেধ করার সাধ মিটাইয়া দে।” উক্ত হুকুম পাওয়া মাত্র ২/৫ নং আসামীরা হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাদী ও স্বাক্ষীদের হত্যার উদ্দেশ্যে তাড়া করে। বাদী ও স্বাক্ষীরা প্রাণভয়ে নিরাপদ দূরত্বে বাড়ীর নিকট দৌড়ে আসে এবং আসামীদের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করিতে থাকে।
আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে ও সহায়তায় তফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে জোর পূর্বক জমির দখল নিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে এবং অজ্ঞাতনামা লেবাররা আনুমানিক ৭২ টি বাঁশ কাটে এবং ১-৫ নং আসামীরা কোদাল দিয়ে বাঁশের কুড়া উপড়াইতে থাকে ফলে বাদীর আনুমানিক ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকার ক্ষতি সাধিত হয়। ১-৫ আসামীরা উক্ত বাঁশগুলি তাহাদের বাড়ীতে নিয়ে যায়।
এছাড়াও ৫ নং আসামী বাদী ও ১ নং স্বাক্ষীকে চিৎকার করে হত্যার হুমকি প্রদান করে এবং জমির সীমানা কোদাল দিয়ে অন্যান্য আসামী-সহ উপড়াইয়া জমির রকম পরিবর্তন করিতে থাকে এবং বাদীকে জীবনের তরে শেষ করিবে মর্মে শাষণ গর্জন করে। ফলে আসামীরা ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪ (২) (3) ৭/১০/১৩/১৬ ধারায় অপরাধ করিয়াছেন।# মহ/