স্টাফ রিপোর্টার :
রাজশাহীর দুর্গাপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন একমাত্র ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়ছেন ৬৫ উর্ধ মা রহিমা বেগম। ছেলের চিকিৎসার জন্য দারে দারে ঘুরে পাননি সমাধান। অসহায় গর্ভধারিণী মায়ের পাশে দাবিয়েছেন দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন।
গত ৭ অক্টোবর (মঙ্গলবার) বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাহাঙ্গীর আলমকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শুরুর জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জানা যায়, জাহাঙ্গীর আলম পেশাতে কৃষক ছিলেন , স্ত্রী সন্তান সহ সুখে শান্তিতে বসবাস করছিলেন হঠাৎ মানসিক অসুস্থতায় ছেড়ে যায় স্ত্রী, সন্তান। জাহাঙ্গীর আলমকে পায়ে লোহার শীকল দিয়ে রাখা হতো বাড়িতে, বাইরে বের করলে, দড়ি বেঁধে রাখা হতো কোনো গাছের সাথে। বৃদ্ধ মা খুবই কষ্ট করে ভরনপোষণ করেছেন প্রায় ৩ বছর। ছেলের চিকিৎসার জন্য দারে দারে ঘুরেও পাননি কোনো সমাধান। ছেলের চিকিৎসার জন্য দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিনের নিকট এসে তার অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছিলেন।
মা রহিমা বেগম জানান, “আমার একমাত্র ছেলে জন্মগত পাগল ছিলোনা। সুস্থ, সবল, কর্ম করে জীবনধারণ করতো। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, বউ ফেলে সন্তান নিয়ে বাপের বাড়িতে চলে গেছে। আমার সন্তান আমি কি, ফেলে দিতে পারী? ৩ বছর ধরে কষ্ট করে যাচ্ছি। আমার বয়স হয়েছে আমি মারা গেলে আমার সন্তান রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবে একটু চিকিৎসার জন্য কতো জনের কাছে গিয়েছি কেউ সহযোগিতা করেনি। ইউএনও মহোদয় আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন”।
এবিষয়ে দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাবরিনা শারমিন জানান, “গণ-শুনানীর দিন এক বৃদ্ধা মা আমাকে ক্রন্দনরত অবস্থায় জানায়, তিনি খুবই দরিদ্র এবং তার সন্তান মানসিক ভারসাম্যহীন। চিকিৎসার অভাবে বাড়িতে রাখা দায়।তার আবেদনের প্রেক্ষিতে দূর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় কেউ তাকে পাবনায় নিয়ে যেতে রাজি হচ্ছিলেন না, পরবর্তীতে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয় এবং ভর্তি করানো হয়।# মহ/